[ad_1]
বাংলাদেশের শিক্ষা এবং সাহিত্য অঙ্গনে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন এক আলোকবর্তিকা। তিনি নিঃসন্দেহে একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার উদারতা এবং আন্তরিকতা ছিল অতুলনীয়।
শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক, সংস্কৃতিচিন্তক ও পেন বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্মরণে সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। লেখক, সাহিত্যিক, ব্লগার ও সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ শাখার উদ্যোগে শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারিদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক দিকে তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল, সম্পৃক্ততা ছিল। আমি বয়সে তার থেকে সিনিয়র, প্রায় ১০-১২ বছর। কিন্তু আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩ সালে একসঙ্গে এমিরেটাস প্রফেসর হলাম। ছয় জন আমরা একসঙ্গে এমিরেটাস হলাম। এই ছয় জনের মধ্যে আমি ছিলাম বয়োজ্যেষ্ঠ। আমাদের বয়স যখন ৮৫ হবে, তখন আমাদের কর্মকাল শেষ হবে। সেটা আগামী বছরের ১ মার্চ। মনজুরুলের আরও কমপক্ষে ১৪-১৫ বছর এই পদে থাকার কথা ছিল। বলা যায় তিনি কম বয়সেই এমিরিটাস হয়েছিলেন। এটা তার মেধা কর্ম সবকিছু মিলিয়েই। আমি তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।’
বক্তারা আরও বলেন, সংস্কৃতি অঙ্গনে যারা কাজ করেছেন, সবাই কোনও না কোনোভাবে তার সহযোগিতা পেয়েছেন। তার শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষে আবদ্ধ ছিল না, ছড়িয়ে পড়েছিল শুভচিন্তার প্রত্যেক মানুষের মনে। শিক্ষার্থীদের কাছে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তার মৃত্যু মানে এক প্রজ্ঞাদীপ্ত যুগের অবসান। তার চলে যাওয়া জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মননশীলতার জগতে গভীর এক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পেন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল কবি জাহানারা পারভীন এবং নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন কবি জাহিদ হায়দার। এ সময় ভায়োলিন পরিবেশন করেন ড. শিউলী ভট্টাচার্য, তার সঙ্গে তবলায় ছিলেন সুকান্ত দাস। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জীবনী পাঠ করেন কথাসাহিত্যিক শাহনাজ নাসরীন।
স্মৃতি চারণ ও বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানে ‘প্রেম ও প্রার্থনায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় স্মারকগ্রন্থ ‘প্রেম ও প্রার্থনায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’ মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
পেন বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট কবি সঞ্চালক কবি শামীম রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস প্রফেসর নজরুল ইসলাম, সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য কবি আসাদ মান্নান, কবি জাহিদ হায়দার, পেন বাংলাদেশের সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ ও ইউল্যাবের প্রফেসর সামসাদ মর্তুজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সানজিদা হোসেন, ব্রুনেল ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের শিক্ষার্থী সৈয়দা নোভেরা আনওয়ার, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী শাহজাহান বিকাশ,কথা প্রকাশের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পেন বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন, সাবেক অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ও শিশু সাহিত্যিক মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম, কবি ও লোক সম্পাদক অনিকেত শামীম, পেন বাংলাদেশের সেক্রেটারি কবি ও সাংবাদিক জাহানারা পারভীন, কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ নাসরিন প্রমুখ।
[ad_2]
