বাংলাদেশের টেকসই সামুদ্রিক উন্নয়ন, সমুদ্র সম্পদ নির্ভর অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) বাস্তবায়নে কার্যকর সুশাসন ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, সমুদ্রে অবৈধ, অপ্রকাশিত ও অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মাছ ধরা মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধি জরুরি। এছাড়া জলবায়ু সংকট ও আইইউইউ মোকাবেলায় কোনো দেশ একা সফল হতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত পদক্ষেপ।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের ‘দ্য পেনিনসুলা’ হোটেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সস আয়োজিত ‘মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ব্লু ইনোভেশনস: সেইফগার্ডিং ওশান হারমনি’ শীর্ষক ৪ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ফরিদা আখতার বলেন, ‘ড. ফ্রিটজফ নানসেন কর্মসূচি-২০২৫ এর সামুদ্রিক জরিপ অনুযায়ী, গত ৭ বছরে ছোট পেলাজিক মাছের মজুদ ১ লাখ ৫৮ হাজার টন থেকে কমে ৩৩ হাজার ৮১১ টনে নেমে এসেছে, যা ৭৮.৬ শতাংশ হ্রাস। এভাবে সমুদ্রে বড় শিকারি মাছ কমে যাওয়ায় জেলিফিশের আধিক্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক সংকেত। শুধু তাই নয় সামুদ্রিক জরিপের এমন ফলাফল বঙ্গোপসাগরের ইকোসিস্টেমে দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘টেকসই সামুদ্রিক উন্নয়ন ও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত, দায়িত্বশীল আহরণ এবং কার্যকর সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতি প্রণয়নে গবেষক–বিজ্ঞানীদের তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।’
ইলিশ সম্পদের সুরক্ষা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘ইলিশ বাংলাদেশের বৈশ্বিক ঐতিহ্যের অংশ হলেও সম্পদটি আজ হুমকির মুখে। সাগরের বিভিন্ন স্তরে ইলিশ রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের প্রফেসর ড. পিয়ের ফাইলার। বিভিন্ন দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেন।
এসি
