জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল ও আগ্রহী প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানালেও সংবিধান ও নির্বাচন আইন অনুযায়ী সবাই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে বয়স ও নাগরিকত্ব ছাড়াও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত ও বিধিনিষেধ রয়েছে।
সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সরকারের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। দুর্নীতির অভিযোগে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত, অপসারিত বা বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত হলে ওই ঘটনার পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হলে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।
সামরিক বা বেসামরিক সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের পর তিন বছর পূর্ণ না হলে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়া যাবে না। সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।
সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে জড়িত কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এ ছাড়া বিদেশি কোনো রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান বা তহবিল গ্রহণকারী কোনো বেসরকারি সংস্থার কার্যনির্বাহী পদে কর্মরত ব্যক্তি কিংবা ওই পদ থেকে পদত্যাগ বা অবসর নেওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন।
আরপিও অনুযায়ী, ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা সরকারের কোনো সেবাদানকারী সংস্থার বিল খেলাপি ব্যক্তিরাও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
সংশোধিত আরপিওতে আদালত ঘোষিত ফেরারি বা পলাতক আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা অন্য কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন না।
এসি
